ঘরে বসেই খুলতে পারবেন যে সব ব্যাংকের একাউন্ট
ঘরে বসেই খুলতে পারবেন যে সব ব্যাংকের একাউন্ট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত:৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ অপরাহ্ন
ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট খোলার জন্য আপনার হাতে যদি পর্যাপ্ত সময় না থাকে এবং কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে একটি ব্যাংক হিসাব খুলতে চান তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য সহায়ক হবে। আজ আমরা জানবো ঘরে বসে অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে।
অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
আর্থিক লেনদেন নিষ্পত্তি কিংবা অর্থের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও উত্তম মাধ্যম হলো ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক ব্যবসায়ের উৎপত্তি দ্বাদশ শতকে হলেও তা যুগের পরিক্রমায় আজ আধুনিক রূপ ধারণ করেছে।
অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে ব্যালেন্স ও স্টেটমেন্ট দেখা, দেশে-বিদেশে টাকা পাঠানো সহ অনেক কাজ এখন ঘরে বসেই মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে করা যায়।
ব্যাংক ব্যবসায়ে টিকে থাকতে এবং আধুনিকতার সাথে তাল মেলাতে দেশের অধিকাংশ ব্যাংকই অনলাইনে একাউন্ট খোলার সুযোগ দিচ্ছে। আজকে আমরা সে বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। নিচের পোস্ট সূচিপত্র থেকে বিষয়বস্তু জেনে নিতে পারেন।
অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুবিধা
অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, যা সনাতন পদ্ধতি থেকে একে আলাদা ও জনপ্রিয় করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো- সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করা যায়, অত্যন্ত সহজ ও সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি, বাড়তি কাগজপত্রের ঝামেলা নেই, ঘরে বসে যেকোনো সময় একাউন্ট খোলা যায়।
ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে?
সনাতন পদ্ধতি বা শাখায় গিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে বেশ কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। সেগুলি হলো-
একাউন্ট হোল্ডার ও নমিনি উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা জন্মসনদের ফটোকপি।
একাউন্ট হোল্ডার ও নমিনি উভয়ের সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
ব্যাংক একাউন্ট ওপেনিং ফর্ম, যা প্রত্যেক ব্যাংক বিনামূল্যে প্রদান করে থাকে। এটা বাইরে থেকে প্রিন্ট করানো বা সংগ্রহ করার প্রয়োজন পড়ে না।
তবে অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে চাইলে এসব কাগজপত্র কিংবা পাসপোর্ট সাইজের ছবির ঝামেলা নেই। শুধু প্রয়োজন জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং একটি সচল ফোন নাম্বার।
ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে?
ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কোনো ফি বা চার্জ দিতে হয় না। বাংলাদেশের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের নতুন গ্রাহকদের একাউন্ট খোলার জন্য কোনোরকম চার্জ কাটে না।
তবে নতুন ব্যাংক একাউন্ট খোলার পরে তা অ্যাক্টিভ করতে ন্যূনতম পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। এটার পরিমাণ ব্যাংক ভেদে ১০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
আপনি যত টাকা জমা করবেন তা আপনার ব্যাংক ব্যালেন্সে জমা হবে। এবং চাইলে তা পরবর্তীতে যেকোনো সময় উত্তোলন করে নিতে পারেন।
অনলাইনে যেসব ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায়
বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাংকই অনলাইনে একাউন্ট খোলা সুবিধা দিচ্ছে। তার মধ্য থেকে কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যাংকের নাম নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ
ডাচ বাংলা ব্যাংক লি:
সোনালী ব্যাংক লি:
মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লি:
আইএফআইসি ব্যাংক লি:
ব্যাংক এশিয়া লি:
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লি:
প্রাইম ব্যাংক লি:
ন্যাশনাল ব্যাংক লি:
দ্য সিটি ব্যাংক লি:
ইউসিবি ব্যাংক লি:
মিডল্যান্ড ব্যাংক লি:
অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
আগেই বলেছি দেশের সব ব্যাংক অনলাইনে একাউন্ট খোলার মাধ্যম চালু না করলেও অধিকাংশ ব্যাংকই এই সেবা দিচ্ছে।
প্রতিটি ব্যাংকের অনলাইনে একাউন্ট খোলার নিয়ম বা পদ্ধতি, সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট আলাদ হওয়ায় আপনার কাঙ্ক্ষিত ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য সে ব্যাংকের বেধে দেওয়া নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
তবে সব ব্যাংকের ক্ষেত্রেই কিছু কমন বা সাধারণ নিয়ম আছে। পোস্টের এই অংশে আমরা সেই নিয়ম সম্পর্কে জানবো।
নিয়ম-১ঃ প্রথমে আপনার কাঙ্ক্ষিত ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ করতে হবে। এরপর সেখানে যেসব তথ্য পূরণ করার কথা বলা হয় সেগুলি যথাযথভাবে পূরণ করে সাবমিট করতে হবে।
নিয়ম-২ঃ কিছু ব্যাংকের অনলাইনে একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে এই ধাপটি প্রযোজ্য। অনলাইনে একাউন্ট খোলার জন্য সকল তথ্যাদি দিয়ে আবেদন করার পরে সেই ব্যাংক থেকে একজন প্রতিনিধি কল দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হন অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপনাকেই ব্যাংকের শাখায় গিয়ে একাউন্টটি অ্যাক্টিভ করে নিতে হবে।
অনলাইনে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
বাংলাদেশের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক মূলধনী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান।
তাই অনেকেই এই ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে চান। পোস্টের এই অংশে অনলাইনে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানবো।
ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করতে হবে-
ধাপ-১ঃ ঘরে বসে অনলাইনে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে প্লে-স্টোর অথবা অ্যাপ স্টোর থেকে সেলফিন (Cellfin) অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল করতে হবে।
ধাপ-২ঃ ব্যাংক একাউন্ট খোলার আগে সেলফিন একাউন্ট খুলে নিতে হবে। এজন্য একটি সচল ফোন নাম্বার এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে, এটা অনেকটা বিকাশ একাউন্ট খোলার মতো।
ধাপ-৩ঃ সঠিকভাবে সেলফিন একাউন্ট খোলা এবং তা অ্যাক্টিভ হয়ে গেলে এবার সেলফিন অ্যাপে লগিন করুন এবং মেনু সেকশন থেকে Open A/C অপশনে ক্লিক করুন। এরপর সেলফিন অ্যাপের পিন নম্বরটি দিলে ব্যাংক একাউন্ট খোলার ফর্ম দেখা যাবে।
ধাপ-৪ঃ যিনি ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন প্রথমে তার ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করতে হবে এবং এরপর একজন নমিনির তথ্য পূরণ করে পরবর্তী নির্দেশগুলি অনুসরণ করলেই Successfully Opened Bank Account লেখা দেখতে পাবেন। এর অর্থ এই যে, অনলাইনে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলা সফল হয়েছে!
উপরে উল্লিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করে ঘরে বসেই ইসলামী ব্যাংকের একাউন্ট খোলা যাবে। এজন্য ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে চেক ও এটিএম কার্ড সংগ্রহ করতে শাখায় যেতে হবে।
অনলাইনে ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
আপনি যদি ঘরে বসে অনলাইনে মাধ্যমে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একাউন্ট খুলতে চান তাহলে নিচে উল্লিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করতে হবে।
ধাপ-১ঃ প্রথমে প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে Nexus Pay অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল করে নিতে হবে।
ধাপ-২ঃ এরপর মোবাইল নম্বর দিয়ে নেক্সাস পে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। তার পরে অ্যাপের বাম পাশে মেনুবারে ক্লিক করলে Account Opening নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন, সেখানে ক্লিক করতে হবে।
ধাপ-৩ঃ এপর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে NID Verification ধাপটি সম্পূর্ণ করতে হবে। এজন্য যিনি ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন তার জাতীয় পরিচয়পত্রের উভয়পাশের ছবি তুলতে হবে।
ধাপ-৪ঃ এবার ব্যাংক একাউন্ট হোল্ডারের ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। NID ভেরিফিকেশন করলে এই পর্যায়ে অনেক তথ্য অটোমেটিক ইনপুট হয়ে যায়। তবে সেখানে যদি কোনো তথ্য ভুলভাবে ইনপুট হয় কিংবা এড়িয়ে যায় তাহলে সেগুলি পূরণ করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
ধাপ-৫ঃ যিনি একাউন্ট খুলবেন তার ব্যক্তিগত তথ্যদি দেওয়া হয়ে গেলে এপর্যায়ে একজন নমিনির তথ্য দিতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে দেওয়ার পরে একাউন্ট ওপেনিং Pending দেখাবে।
ধাপ-৬ঃ উপরে দেখানো ধাপগুলি সফলভাবে শেষ করতে পারলে অ্যাপের কাজ শেষ। এবার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নিকটস্থ শাখায় যেতে হবে একাউন্টটি অ্যাক্টিভ করার জন্য। শাখায় গিয়ে দায়িত্বরত কর্মমর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাথে সাথে একাউন্টটি চালু করে দিবেন।
যদিও ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিঃ এটাকে দাবি করছে, অনলাইনে তাদের ব্যাংকে একাউন্ট খোলা যাবে। তবে পুরোপুরিভাবে কথাটা সত্য নয়। নেক্সাস পে অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে একাউন্ট ওপেনিং ফর্ম পূরণ করা গেলে একাউন্ট অ্যাক্টিভ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ব্যাংকে যেতে হচ্ছে।
অনলাইনে যেকোনো ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
উপরে আমরা দুইটি জনপ্রিয় ব্যাংকের একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জেনেছি। একটি পোস্টে সব ব্যাংক সম্পর্কে জানাতে গেলে তা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে, যা অনেকের জন্য বিরক্তিকর মনে হবে।
এজন্য পরবর্তী প্রত্যেকটি ব্যাংক সম্পর্কে আলাদা আলাদা পোস্টে লেখার চেষ্টা করবো। সেখানে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলির অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম এবং সুবিধা-অসুবিধা সহ অনেক বিষয় সম্পর্কে জানাবো
ইতিকথা
যেহেতু প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক কাজই আমরা ঘরে বসে করতে পারি সেহেতু অনেকেই অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান। আজকের পোস্টে সে বিষয়টি সম্পর্কেই জানাতে চেষ্টা করেছি।
আশা করছি, লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা সকল কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করি।

Comments
Post a Comment